চট্টগ্রাম নগরীর সিটি হেলথ ক্লিনিকে গ’র্ভপা’ত ঘটাতে গিয়ে ভু’ল চিকিৎসায় এক কলেজছাত্রীর মৃ’ত্যুর ঘ’টনা ঘটেছে। ওই ঘ’টনায় ক্লিনিকের পরিচালক মো. হারুনর রশিদসহ চারজনকে গ্রে’ফতার করেছে পু’লিশ।

ঘ’টনার প্রায় ছয় মাস পর বুধবার (১১ নভেম্বর) রাতে চকবাজার থানা পু’লিশ তাদেরকে গ্রে’ফতার করে। চট্টগ্রাম মেট্রোলিটন পু’লিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদী হাসান বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ ত’থ্য জানান তিনি।

গ্রে’ফতার অপর তিনজন হলেন- কথিত নার্স অলকা পাল, আয়া গীতা দাস ও নার্স সাবিনা ইয়াসমিন চম্পা। এর আগে গত ১৫ মে অ’বৈধভাবে গ’র্ভপা’ত ঘটনোর সময় সিটি হেলথ ক্লিনিকে রিফাত সুলতানা নামে ওই কলেজছাত্রীর মৃ’ত্যু হয়।

ঘ’টনার পরপরই নি’হ’ত কলেজছাত্রীর কথিত বন্ধু জিসানকে গ্রে’ফতার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘ’টনায় পাঁচজনকে গ্রে’ফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পু’লিশ।
সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান জানান, ঘ’টনার পর নি’হ’ত কলেজছাত্রীর পরিবারের কাছ থেকে অ’ভিযো’গ পেয়ে পু’লিশ ঘ’টনার ত’দ’ন্ত শুরু করে।

একপর্যায়ে ত’দন্তে আমরা জানতে পারি, গ’র্ভপা’ত ঘটাতে গিয়ে ওই কলেজছাত্রীর মৃ’ত্যু হয়েছে। গত ১৫ মে কলেজছাত্রী রিফাতের অ’বৈধভাবে গ’র্ভপা’ত ঘটানোর চেষ্টা করে আ’সা’মিরা। এ সময় হাতুড়ে নার্সের সাহায্যে রিফাতের গ’র্ভপা’ত ঘটাতে গিয়ে তার মৃ”ত্যু হয়।

কিন্তু হাসপাতালের পরিচালক ও সংশ্লিষ্টরা ঘ’টনা ধা’মাচা’পা দিতে নি’হতের পরিবারকে ক’রো’নায় রিফাতের মৃ”ত্যু হয়েছে বলে জানায়।তিনি আরো জানান, ঘ’টনা ত’দন্ত করতে গিয়ে আমরা দেখেছি এই ধরনের সেবা যে ধরনের চিকিৎসক দিয়ে করানো প্রয়োজন,

এই ক্লিনিকে সেই ধরনের কোনো চিকিৎসক বা নার্স সেখানে ছিলেন না। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নেই এমন দুইজন নার্স ও একজন আয়া গ’র্ভপা’ত করা’নোর কাজটি করেছেন। যেই কারণে অপচিকিৎসার কারণেই মে’য়েটির মৃ’ত্যু হয়েছে।

প্রাথমিক জি’জ্ঞাসাবাদে একজন নার্স শি’কার করেছেন, গ’র্ভ’পাত করানোর সময় রো’গীর অবস্থা আশ’ঙ্কাজনক দেখে নার্সরা বারবার ডাক্তার ডাকার অনু’রো’ধ করেছিলেন। কিন্তু ক্লিনিকের পরিচালক হারুনুর রশিদ বি’ষয়টি অব’হে’লা করেন।

পরবর্তীতে ওই কলেজছাত্রী মা’রা যাওয়ার পর ক্লিনিকের পরিচালক নিহ’তের অভিভাবককে ডেকে নিয়ে বলে আপনার মে’য়ের ক’রোনা হয়েছিল এবং ক’রোনার কারণে তিনি ‘মা”রা গেছেন। এ ঘ’টনায় হ”ত্যা মা’মলা দা’য়ের করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘ’টনায় নি’হত কলেজছাত্রীর বাবা হ”ত্যা মা’মলা দা’য়ের করেছেন। ওই মাম”লায় তাদেরকে আ’দালতে সো’পর্দ করা হবে।

কলেজ ছাত্রীর বাবা খোকন মিয়াজি জানান, রিফাত ও তার ছোট বোন রিয়াদ সুলতানা নগরীর চান্দগাঁও আবাসিকে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ক’রোনাভা’ইরাস ছ’ড়িয়ে পড়লে এপ্রিল মাসে তারা গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়ায় চলে আসেন। এরপর ১৩ মে বাসায় থাকা কম্পিউটার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রিফাত শহরে আসে। পরদিন ১৪ মে তার বোনকে (রিয়াদ সুলতানা) কল করে বলে সে অ’সুস্থ পরদিন সকালে চলে আসবে। এরপর ১৫ মে আমরা রিফাতের মৃ”ত্যুর সংবাদ পাই। জিসান নামে এক যুবক ফোনে আমাকে বলে আপনার মে’য়ে মা’রা গেছে। এরপর তাকে জিজ্ঞেস করলাম এখন আমার মে’য়ে কোথায় আছে। জিসান আমাকে বললো, চকবাজার সিটি হেলথ ক্লিনিকে। এরপর আমরা ক্লিনিকে আসলে হাসপাতাল থেকে আমাদের জানানো হয়- রিফাতের ক’রোনা হয়েছিল। সে ক”রো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মা”রা গেছে।

তিনি আরো জানান, এরপর তার ম’রদে’হ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর গোসল করাতে গিয়ে দেখা যায় তার শ’রীরের বিভিন্ন জায়গায় স্প’ট আছে। তখন আমরা বুঝতে পারি রিফাত ক’রো’নায় মা”রা যায়নি। তার মৃ”ত্যুর পেছনে অন্য কোনো কার’ণ আছে। তখন আমরা বি’ষয়টি থানা পু’লিশকে অব’হি’ত’ করি।খোকন মিয়াজি বলেন, শেষ যাত্রায় আমি আমার মে’য়েকে ধরে দেখতেও পারিনি। ক’রো”নায় মা”রা গেছে বলায় তাকে দা’ফন করতেও আমাদের অনেক ক’ষ্ট পেতে হয়েছে। আমি মে’য়ে হ”ত্যার বিচার চাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here