মহান আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিম নাজিল করার সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষণ করারও দায়িত্ব নিয়েছেন নিজে।

৯ বছরে কোরআনের হাফেজ- পবিত্র কোরআন শুধু আল্লাহতায়ালার প্রেরিত একটি গ্রন্থ নয়, বরং এটা একটা বড় নির্দশনও বটে।

সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমকে বিভিন্নভাবে সংরক্ষণ করছেন এবং কেয়ামত অবধি তা সংরক্ষণ করবেন।

কোরআন সংরক্ষণের অন্যতম একটি মাধ্যম হচ্ছে- মানুষের মাধ্যমে কোরআন মুখস্থ করা। যাকে আমরা হিফজ বলি।

পৃথিবীতে যত ধর্মগ্রন্থ আছে তন্মধ্যে কেবল কোরআনই মুখস্থ করা হয়। তাই পৃথিবীতে অসংখ্য অগণিত কোরআনের হাফেজ বিদ্যমান।

এমন মেধাবী শিশু কীর্তি নিয়ে এলাকায় চলছে তু’মুল আ’লোচনা। অনেকে এই শিশু হাফেজে কোরআনকে দেখতেও আসছেন।

আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো- কোরআন হেফজ করার সময়।

কেউ এই মহাগ্রন্থ এত অল্প সময়ে মুখস্থ করে ফেলে যে, তার রীতিমতো বিস্ময়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

সম্প্রতি এমনি বিস্ময় সৃষ্টি করে ৯ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন হিফজ (মুখস্থ) করেছে দুই শিশু।

শারীরিক ভাবে দু’র্বল ও অসুস্থ একটি ছেলে মাত্র ২ মাস ৫ দিনে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছে ‘হাফেজ’ খেতাব অর্জন করেছে।

এই কীর্তিমান হাফেজ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর কওমি কেরাতুল মাদরাসার শিক্ষার্থী।

৯ বছর বয়সী এই কৃতি ছাত্রের নাম আহমাদ তাইমিয়া। সে কোটচাঁদপুর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আসলাম হোসেনের ছেলে।

অল্পসময়ে কোরআন মুখস্থ করা প্রসঙ্গে কোটচাঁদপুর কওমি কেরাতুল মাদরাসার পরিচালক

মুফতি ইবরাহিম খলিল জানান, ২ বছর আগে শিশু তাইমিয়া এই মাদরাসায় ভর্তি হয়।

সেখানে নার্সারি ও প্রথম শ্রেণি শেষ করে। এরপর গত বছরের জুলাই মাসে কোরআনে কারিম পড়া শুরু করে।

আমার সেই আশা পূরণ হয়েছে। তাইমিয়ার বাবা ও তার পরিবারের ইচ্ছা সে যেন বড় আলেম হয়।

প্রথমে সহিহ-শুদ্ধভাবে দেখে দেখে কোরআন তেলাওয়াত শেখা শেষে কোরআন শরিফ মুখস্ত শুরু করে শুরু করে।

গত ১৯ জানুয়ারি তার ৩০ পাড়া কোরআন মুখস্ত শেষ হয়। মাদরাসার পরীক্ষা, ছুটি বাদ দিয়ে মাত্র ৬৫ দিনে তাইমিয়া কোরআনে কারিমের হাফেজ হয়েছেন।

মুফতি ইবরাহিম আরো বলেন, আমাদের প্রত্যাশা- আল্লাহতায়ালা তাকে দ্বীনের জন্য কবুল করবেন।

শিশু হাফেজ তাইমিয়ার পিতা আসলাম হোসেন বলেন, আমার আশা ছিল ছেলেকে কোরআনের হাফেজ বানানোর।

এদিকে ১২০ দিনে (৪ মাস) কোরআন শরীফ মুখস্ত করলো আব্দুর রহীম।

৯ বছর বয়সের এই এতিম শিশুটি কক্সবাজার খানকায়ে হামেদিয়া এতিমখানা ও হেফজখানার ছাত্র।

কক্সবাজারের টেকনাফের মধ্যম হ্নীলা গ্রামের মরহুম নুরুল আজিমের পুত্র সে। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে আব্দুর রহীম তৃতীয়।

মা ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়ে অন্যত্র। তাই এতিমখানায় মানুষ হচ্ছে শিশুটি। বাবার মৃ’ত্যু ও মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়ায় অনেকটা কুলহীন হয়ে পড়ে আব্দুর রহীম।

শিশু হাফেজ আব্দুর রহিমের পিতা নুরুল আজিম চার বছর আগে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় নৌকাডুবির ঘটনায় মা’রা যায়।

এরপর দাদা-দাদীর কাছে থাকতে শুরু করে সে। দাদা ইউছুপ ও দাদী সারা খাতুনের তত্ত্বাবধানে ভর্তি হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সড়ক সংলগ্ন খানেকায়ে হামেদিয়া এতিমখানা ও হেফজ খানায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here