তোর রস বেশি বাড়ছে, তোরে আমি রে’প করমু: মু’রাদের অ’ডিও ফাঁস

বর্তমানে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে সরগরম হচ্ছে সামাজীক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গন মাধ্যম, সেই সাথে তার এই সকল বক্তব্য নিয়ে দেখা যাচ্ছে মানুষের মধ্যে ব্যপক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে তার একটি বক্তব্য ব্যপক ভাইরাল হয়েছে এবং মানুষ এই ভিডিও নিয়ে সমালোচনা করছে। ঐ ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হোসেন তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেছেন।

নিজের মেয়েকে কি কেউ এরকম অশ্রাব্য, অসভ্য এবং কুরুচিপূর্ণ গালি দেয়? তাও সরকারের একজন মন্ত্রী কি একাজ করতে পারেন? পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। একজন লোক যখন মন্ত্রী হয় তখনতো সারা দেশের ছেলেমেয়ে হয়ে উঠে তার নিজের ছেলেমেয়ে।

তাই নয় কি? গালিটা কি তার নিজের মেয়ে, নিজের বোন-ভাগ্নীকে দিলেন না? ৫০ বছরে কষ্ট করে এদেশের নারী ও শিশুদের অধিকারের যে জায়গাটা আমরা তৈরি করেছি সেটি এই হাফ-মন্ত্রী একদম গুড়িয়ে দিলো।

তাহলে এদেশে মহিলাদেরকে এভাবে প্রকাশ্যেই হোর বলা যায়? মাসুদা ভাট্টির প্রতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন যখন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন তখনও আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছিলাম। হতে পারেন তিনি নামকরা ব্যারিস্টার,

হতে পারেন তিনি গনতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন কিন্তু এদেশের একজন নারীকে তিনি প্রকাশ্যে টিভিশোতে এভাবে গালি দিতে পারেন না। তার ফল তিনি পেয়েছেন এবং এই পাওয়াটা তার দরকার ছিলো। তাহলে আজকে কেন সমাজের বুদ্ধিজীবী এবং মার্কামারা নারীবাদীরা চুপচাপ?

মুখ খোলেন আপারা। সময় তো বহিয়া যায়! বেগম জিয়া বা শেখ হাসিনাকে নিয়েও অনেকে অসম্মানপূর্ণ মন্তব্য করেন। কিন্তু তারা অনেকেই ভুলে যান যে এদেরকে এদেশের জনগন বারবার ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন।

উনাদের অনেকের বর্তমান রোল নিয়ে অবশ্যই বিরাট প্রশ্ন তোলা যায় এবং সেটি তুলছিও আমরা কিন্তু তাই বলে তাদেরকে অশ্রাব্য গালি দিতে হবে? আর বেগম জিয়াকেতো স্বয়ং বঙ্গবন্ধুই সম্মানিত করে গেছেন। তাকে তো জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক,

আহমেদ ছফা আর দেশের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদ জোসনা ও জননীর গল্পেই অমর করে ফেলেছেন! যাক সে প্রসঙ্গ, জাইমা রহমান একটা বাচ্চামেয়ে যে কিনা এখনো কোন রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক সদস্যও না,

যে কিনা আবার বঙ্গবন্ধু এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়ও, তাকে কেন টার্গেট করলো মুরাদ? কারণটা খুবই সিম্পল। কারণ হলো সেই মিশেল ফুকোর ক্ষমতার প্রশ্ন। এখানে মুরাদকে টার্গেট করে কোন লাভ নেই। দেখতে হবে মুরাদকে পয়দা করলো কোন ক্ষমতা কাঠামো।

মুরাদের একটা এজেন্সি আছে। সেই এজেন্সি এসব মুরাদ পয়দা করে। সেই এজেন্সিকে চ্যালেঞ্জ না করতে পারলে লক্ষ লক্ষ মুরাদ পয়দা হতেই থাকবে। সব আওয়ামী লীগাররা যেমন মুরাদ না, তেমনি এটাও সত্য যে ভারসাম্যহীন ক্ষমতা চর্চ্চার কারণে লক্ষ লক্ষ মুরাদ ইতোমধ্যেই তৈরি হয়ে সমাজের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। সচিবালয়ে যান দেখবেন মুরাদরা বসে আছে,

শিক্ষা প্রতিষ্টানে যান দেখবেন মুরাদরা বসে আছে, মিডিয়াতে যান দেখবেন মুরাদরা বসে আছে, একটা সার্ভিস নিতে যান কোথাও দেখবেন মুরাদরা বসে আছে, একটা দূতাবাসে যান দেখবেন মুরাদরা বসে আছে, একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে যান দেখবেন মুরাদরা বসে আছে, আইন আদালতে যান দেখবেন মুরাদরা বসে আছে।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে সমগ্র সমাজটা যে মুরাদময় হয়ে উঠলো তার জন্য কি শুধু মুরাদ পাগলাই দায়ী? জ্বী না ভাইজান। সমাজ বিশ্লেষণ এতো সোজা না। এর তাত্ত্বিক প্রশ্নটা আপনাকে বুঝতে হবে। এই ক্ষমতা কাঠামোতে কে কি অবদান রেখেছেন সেই প্রশ্নটা আগামীতে ইতিহাস বলবে। প্রগতিশীলতার চর্চ্চা করতে গিয়ে আমরা এখানে কি সর্বনাশ করেছি সেটি ভবিষ্যত বলবে,

মৌলবাদ চর্চ্চা করতে গিয়ে আমরা এখানে কি সর্বনাশ করেছি সেটিও ভবিষ্যত বলবে এবং ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের সবাইকেই একদিন দাঁড়াতে হবে। মুরাদ এই গালিটা একটা বাচ্চা মেয়েকেই শুধু দেয় নাই, সে এটি এদেশের ১০ কোটি বাচ্চা ছেলেমেয়েদেরকে দিয়েছে। আর এটিই হলো মুরাদের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের জন্য ওর পক্ষ থেকে এক বিরল উপহার। আমাদের ট্যাক্সের টাকায় আমরা এরকম বেয়াদব লোক পালতে চাই না।

সামাজীক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গনমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হোসেনের একটি ভিডিও এখন রিতিমত সাড়া ফেলেছে, প্রতিমন্ত্রী তার ঐ ভিডিওতে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের বিষয়ে নান কটুক্তি করেছেন এবং নেতিবাচক আওনেক কথা তিনি বলেছেন যেগুলো নিয়ে সামাজীক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গনমাধ্যমে ব্যপকভাবে আলোচনা সমালোচনা চলছে

https://www.facebook.com/watch/?v=397232042188791

About admin

Check Also

হাজারো মানুষের ঢল সাগরে এত বড়সড় মাছ ধরা পড়াতে, রাতারাতি ভাইরাল।

দেশ-বিদেশে কি সমস্ত ঘটছে সেগু’লো টুইটার এবং ইউটিউবসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে তুমুল ভাইরাল হয়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *