ডা. মুরাদ ছাত্রদল করতেন -এই তথ্য সামনে আসায় লাভ হয়েছে বিএনপির

ডা. মুরাদ হাসানের মত বীভৎস, নোংরা মানুষ এক সময় ছাত্রদল করতেন, এই তথ্যে বিএনপি’র সমস্যা কী? বরং এই তথ্য সামনে আসায় বিএনপি’র লাভ হয়েছে।

এই তথ্যের মাধ্যমে মুরাদের চরিত্রের আরেক দিক উন্মোচিত হয়েছে – এই লোক বিশ্রীরকম সুবিধাবাদী আদর্শহীন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি ক্ষমতা থেকে চলে যাবার পর তিনি ছাত্রলীগে যোগ দেন এবং সেই মেডিকেল কলেজের সভাপতি হন।

এরপর তিনি এমপি-মন্ত্রী হয়ে প্রমাণ করলেন এমন পচা লোকদেরই ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বর্তমান আওয়ামী লীগ। বিএনপি’র মহাসচিব এই লোক এবং সেই সূত্রে আওয়ামী লীগের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছেন। হতেই পারে, দলীয় মহাসচিবের এই বক্তব্যের গাঢ় অর্থ কারো কাছে তাৎক্ষণিকভাবে বোধগম্য হয়ে ওঠেনি।

কিন্তু প্রকাশ্যভাবে দলের অন্যতম সর্বোচ্চ পদধারীর সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়া, এমনকি এরপরও সামাজিক মাধ্যমে সেটা নিয়ে অনেকের আলাপ চালিয়ে যাওয়া দলের স্বার্থের কতটুকু পক্ষে? ‘বাজারে’ প্রতিটি ইস্যু আসার পর আমরাই আলোচনা করি এটার মাধ্যমে সরকার তার জন্য বিব্রতকর অন্য ইস্যু ধামাচাপা দেয়।

মুরাদ-ইস্যু সামনে আসার পরও আমরাই বলেছি এটা দেশনেত্রী ম্যাডাম জিয়ার অসুস্থতার আলোচনা ধামাচাপা দেবার জন্য করা হচ্ছে। এখন মুরাদের ছাত্রদলের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অহেতুক বিতর্ক করে মুরাদ ইস্যুকেও তো চাপা দিচ্ছি আমরা।

এখন নিজেদের মধ্যে ন্যূনতম কোন্দল-বিতর্ক কোনো ব্যক্তি নয়, দুর্বল করবে দলকেই – এটা বোঝা খুব স্বাভাবিক কাণ্ডজ্ঞানের ব্যাপার, রকেট সায়েন্স কথাগুলো অনেকের কাছে খাপছাড়া মনে হতে পারে।

তবুও কিছু সমীকরণ মিলাবো। ডা. মুরাদ হাসানের গত কয়েক মাসের কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ করলে কিছু বিষয় পরিষ্কার হওয়া যাবে। তিনি রাষ্ট্র ধর্ম নিয়ে কথা বলেছেন। তার এই বক্তব্যের সাথে আমার মত অসাম্প্রদায়িক চেতনার অনেকেই একমত।

তবুও এই সময়ে, কোনো ইস্যু ছাড়া হঠাৎ করে তার এই বক্তব্য দেয়ার কারণ কি? যখন দেশে জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন চলছে। এইখানে তিনি মোল্লাদের খেপিয়েছেন।

বেগম জিয়ার পর বিএনপির নেতৃত্বে কে আসবেন- এটা এখন খুবই আলোচিত বিষয়। দলের একটি গ্ৰুপ ছাড়া পুরা জাতির কাছেই তারেক রহমান চরম বিতর্কিত ব্যক্তি। কর্মকাণ্ডে তার আর মুরাদের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই।

ভাবা হচ্ছিলো তারেক রহমানের বৌ ডা. জুবাইদা হয়তো বিএনপির হাল ধরবেন। কিন্তু তিনিও অনিচ্ছুক। সেই জন্যেই কি চরম অশ্লীল মন্তব্য করে জাইমা রহমানকে লাইম লাইটে নিয়ে আসার চেষ্টা? তার প্রতি নারীদের সহানুভূতি তৈরি করা? এইখানে তিনি বিএনপি এবং নারীদের বিক্ষুব্ধ করেছেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন। ছাত্রী হলের মেয়েদেরকে নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করেছেন। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু কন্যা পড়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেপলে কি হয় তা মি. মুরাদ খুব ভালো করেই জানেন। আর এর সাথে যদি মেয়েরা মাঠে নামে’তো কোনো কথাই নেই। এই খানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেপিয়েছেন। এরপর তিনি হয়তো সিরিয়ালি হাইকোর্ট তথা আইনজীবী এবং প্রেসক্লাব তথা সাংবাদিকদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করতেন।

এই সকল গোষ্ঠীকে বিক্ষুব্ধ করতে পারলে সরকারের পতন ঘটাতে আর কিছু লাগে না। একজন চিত্র নায়িকার সাথে চরম আপত্তিকর কথাগুলো তিনি বলেছেন দুই বছর আগে। দুপক্ষের কেউই এটা রেকর্ড করে অনলাইনে ছাড়েননি। তাহলে কিভাবে বাইরে আসলো ? একটু মাথা খাটান। উত্তর পেয়ে যাবেন। সরকারের আরও সর্বনাশ করার আগেই ধরা খেয়েছেন। সরকারকে বিনাশ করতে গিয়ে নিজেই বিনাশ হয়ে গেছেন। কপালে হয়তো আরও শনি আছে। মনে রাখা দরকার ডা. মুরাদ একসময়ের ছাত্রদল নেতা। কিন্তু তার বাবা মতিউর রহমান তালুকদার বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন। ওই পরিবারের সন্তান হয়ে মুরাদের রাজনীতি শুরু ছাত্রদল দিয়ে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এলে হয়তো তিনি এখন বিএনপির রাজনীতিই করতেন।

সূত্র: BANGLAINSIDER

About admin

Check Also

রুমিন ফারহানাকে আটকের পর, ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে চোখ ধাধানো জবাব দিলেন।

বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানাকে পথে গাড়ি আটক করে রেখে দেয় পুলিশ। দীর্ঘ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *