মোনাজাতে ‘মুখ ফসকে’ দলীয় পদ হারালেন আ.লীগের নেতা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারীদের জান্নাতবাসী করার জন্য দোয়া করা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাককে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি রাজশাহীর বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের কমিটিতে ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলেন। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর প্রথম প্রহরে তাঁর করা মোনাজাতের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর পৌর আওয়ামী লীগ জরুরি সভা ডেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া আবদুর রাজ্জাক প্রধানমন্ত্রী ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। মুখ ফসকে এমন বাক্য বের হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়,

বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে গত বুধবার দিবাগত রাতে তাহেরপুর পৌরসভার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌর আওয়ামী লীগসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনীতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। আওয়ামী লীগের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মোনাজাত করা হয়।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহেরপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আবদুর রাজ্জাককে। মোনাজাতসহ ওই রাতের শহীদ মিনারের কর্মসূচি ‘বাগমারা টাইমস’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ সময় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া আবদুর রাজ্জাক প্রধানমন্ত্রী ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। মুখ ফসকে এমন বাক্য বের হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
দোয়া পরিচালনার একপর্যায়ে মাওলানা আবদুর রাজ্জাক বলেন,

‘স্বাধীনতার জনক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যারা হত্যা করেছে, মানুষ নয় অমানুষ, মাবুদ। জাতির জনক ও তাঁর পরিবারকে যারা হত্যা করেছে, তাদের সকলকে তুমি জান্নাত দান করে দিও আল্লাহ।’

ওই মোনাজাতের ভিডিও গতকাল শুক্রবার ফেসবুক ছাড়াও মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ভিডিওর নিচে মন্তব্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পড়তে থাকে। অনেকে এ অপরাধকে ক্ষমার অযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। অনেকে এ কাজের প্রতিবাদ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তবে অনেকে এটাকে স্রেফ ভুল হিসেবে মন্তব্য করেন। তাঁরা জানান, মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, এই ভুল হতে শিক্ষা নিতে হবে। অনেকে বলেছেন, মোনাজাত পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আওয়ামী লীগ নেতার এ ধরনের বক্তব্য দুঃখজনক। দলের কয়েকজন নেতা জানান, এমন ভুল কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ শনিবার তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বাক্কার মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবদুর রাজ্জাক দোয়া পরিচালনা করার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য একটি বাক্য উচ্চারণ করেছেন। এ জন্য আওয়ামী লীগের কার্যকরী সভা ডেকে তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য উপজেলা কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আবুল কালাম আজাদ জানান, তাঁরা বুঝতে পারেননি দোয়া পরিচালনার সময় এমন বাক্য উচ্চারণ করেছেন। এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এ জন্য সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে দোয়া পরিচালনাকারী আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক জানান, তাঁর বয়স হয়েছে। তিনি ডায়াবেটিকসে আক্রান্ত। খুনিদের জাহান্নাম কামনা করতে গিয়ে মুখ ফসকে জান্নাত শব্দটি বেরিয়ে গেছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন। তিনি এই ঘটনায় লজ্জিত বলেও জানান।

About admin

Check Also

রুমিন ফারহানাকে আটকের পর, ফেসবুকে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে চোখ ধাধানো জবাব দিলেন।

বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার পথে ব্যারিষ্টার রুমিন ফারহানাকে পথে গাড়ি আটক করে রেখে দেয় পুলিশ। দীর্ঘ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *