মৃত্যুর আগে যেই আক্ষেপ ও শেষ ইচ্ছে ছিল রুবেলের

২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে ডাক পেয়েছিলেন মোশররফ হোসেন রুবেল।ওই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। অল্প কিছু দিন পরই আয়ারল্যান্ড এল বাংলাদেশ সফরে। সে সিরিজে আর জায়গা হয়নি রুবেলের।

লম্বা সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে এক সিরিজ পরই বাদ পড়াটা রুবেল সেদিন কোনোভাবেই মানতে পারেনি। খুব হতাশ হয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক না হয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হলে হয়তো ওর ক্যারিয়ারটা অন্য রকম হতো।

তারপর হতাশা পেয়ে বসে। তখনই ভারতে বিদ্রোহী ক্রিকেট লিগ আইসিএলের প্রস্তাব ফেরাতে পারেনি। ফলাফল বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হলো। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে যখন ফিরল, সেই আগের রুবেলকেই দেখেছিলাম।

বিপিএলে দারুণ পারফর্ম করে আলোচনায় ছিল রুবেল। কিন্তু স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে খুবই বিচলিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মুক্তির আনন্দ নিয়ে আবার মাঠে ফিরেছিলেন। পরিশ্রম দিয়ে আবার সবকিছু স্বাভাবিক করেছিল। এই পরিশ্রমই ছিল রুবেলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

২০১৬ সালে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলে ডাক পায়। আট বছর বিরতি দিয়ে জাতীয় দলে ফেরার রেকর্ড বাংলাদেশের আর কারও ছিল না। ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুই সিরিজে দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগও পেয়েছিল। কিন্তু আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারায় বাদ পড়তে হয়। তবে হতাশা তাকে গ্রাস করতে পারেনি।

ঘরোয়া লিগ ও বিপিএলে আগের রুবেলকেই দেখেছিলাম। ২০১৯ সালে বিপিএল চলাকালে প্রথম মরণব্যাধির উপস্থিতি কিছুটা টের পায়; যদিও শুরুতে কিছুই বুঝতে পারেনি। সেবার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলার সময় হোটেল রুমেই খিঁচুনি দিয়ে কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিল।

চিকিৎসকেরা মোটেও আঁচ করতে পারেননি তখন। তারপর বিপিএল শেষে আবার একই সমস্যা, সেই খিঁচুনি দেখা দেয়। তখন আবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে জানা যায় মস্তিষ্কে টিউমার বাসা বেঁধেছে।

সিঙ্গাপুরে আরেকটু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ল মরণব্যাধি ক্যানসার।সেই দফায় অস্ত্রোপচার করিয়ে সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার প্রস্তুতিও শুরু করেছিল রুবেল। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে আবার ফিরে আসে সেই মরণব্যাধি।

তবে একটা আফসোস সঙ্গে নিয়েই বিদায় নিতে হয়েছে রুবেলকে। সেটা হলো টেস্ট ক্রিকেট খেলতে না পারা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৯২ উইকেট নিয়ে একটি টেস্টও খেলতে না পারা ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আফসোস।

শয্যাশায়ী রুবেলের খুব ইচ্ছা ছিল একবারের জন্য হলেও বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে যাওয়ার। ইচ্ছা প্রকাশের তিন দিনের মাথায় সেই প্রিয় স্টেডিয়ামে যাওয়ার সুযোগ হলো রুবেলের, কিন্তু সেটা শুধু নিথর দেহে।

About admin

Check Also

রাজকন্যার বাবা হলেন তাসকিন

পুত্র সন্তানের পর এবার কন্যা সন্তানের বাবা হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয়বার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.