২৭ বছরের প্রবাস: টাকার অভাবে পড়ে আছে মালয়েশিয়া প্রবাসির লাশ

মালয়েশিয়ায় দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর ১৭ দিন ধরে একটি হাসপাতালের মর্গে পড়ে আছে এক হতভাগ্য বাংলাদেশির মরদেহ। পরিবার দরিদ্র হওয়ার কারণে মরদেহ বাংলাদেশে নেওয়ার খরচ জোগাতে পারছে না। তাই যে কোন পন্থায় মালয়েশিয়ার মাটিতে মরদেহ দাফনের জন্য সম্মতি দিয়েছেন পরিবার।

জানা গেছে, জন্ডিস ও লিভারের রোগে গত ১৬ অক্টোবর মোঃ জহিরুল ইসলাম জবু (৫৫) নামে গাইবান্ধার এই প্রবাসী হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত জহিরুল ইসলাম গাইবান্ধা সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর এলাকার কবির পাড়া গ্রামের মৃত হোসেন আলী মুন্সির পুত্র।

জহিরুল কোন বিয়ে শাদি করেনি এবং তার মা-বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। অনেক খোঁজাখুজির পর অবশেষে দেশে থাকা জহিরুল ইসলামের ভাইয়ের মেয়ে রোমানা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তাদের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, তার চাচা জহিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তাদের সাথে দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগও করেনি। এই অবস্থায় তার মরদেহ দেশে আনতে গেলে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা সংগ্রহ করার সামর্থ্য তাদের পরিবারের নেই।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের থাকা নরসিংদীর প্রবাসী মোঃ শাহাদাত হোসেন এই প্রতিবেদককে জানান, ২ সপ্তাহ ধরে জহিরুল ইসলামের মরদেহ দেশটির ইপুহ এলাকার লাজা হসপিটালের মর্গে পড়ে আছে। তার কোনো সঠিক ঠিকানা বা তার পরিচয় উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছিল না।

কারণ তার সাথে যে পাসপোর্টের ফটোকপি পাওয়া গেছে সেখানে তার বাড়ি নরসিংদীর সদরে অবস্থিত বলে উল্লেখ থাকলেও সেই ঠিকানায় এই নামে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায় জহিরের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়।

শাহাদাত হেসেন আরো বলেন, আমি ঐ হসপিটালে কর্মরত থাকার সুবাদে আমি জানতে পারি ইপুহ লাজা হসপিটালের মর্গে একজন বাংলাদেশির মরদেহ পড়ে আছে যার স্বজনের কোনো খোঁজ নেই। তখন আমি অনেক খোঁজাখুজি করে জহিরের আসল ঠিকানা উদ্ধার করি।

তার ঠিকানা উদ্ধার করে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি কিন্তু তাদের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় মরদেহ মালয়েশিয়ায় দাফন করার সম্মতি দেয়। পরিবার না নিলে শ্রীঘ্রই মালয়েশিয়ায় কোন এনজিওর মাধ্যমে মরদেহ দাফন করা হবে।

তিনি আরও জানান, তবে জহিরুল ২৭ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় আছেন। তার সাথে কোন ভ্যালিড পাসপোর্ট বা ভিসা কোন সঠিক ডকুমেন্টস পাওয়া যায়নি। সে কনস্ট্রাকশন সেক্টরে কাজ করতো। জহিরের ভাতিজি রোমানা আক্তার জানিয়েছেন যদি কোন হৃদয়বান ব্যক্তি মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ বহন করেন তাহলে তারা বিমানবন্দর থেকে তার মরদেহ গ্রহন করবেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারীভাবে এই মুহুর্তে মরদেহ পাঠানোর সুযোগ নেই। তবে পরিবার যদি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে ইউএনও বা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন করে তাহলে সরকার রাজি হলে সরকারী খরচে মরদেহ দেশে পাঠানো যেতে পারে।

About admin

Check Also

বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শ্রাবন্তী

প্রতিদিন সড়কে ঝরে যাচ্ছে একাধিক প্রাণ। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ হলেও সময় গড়াতেই এসব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *