৩৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: অপেক্ষার পালা যেন ফুরাচ্ছে না

তিন বছর পেরোলেও আটকে আছে শিক্ষক পদে ৩৮ হাজার ২৬৮ চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগ প্রক্রিয়া। বর্তমানে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ চললেও অপেক্ষার পালা যেন ফুরাচ্ছেই না।নিয়োগ প্রত্যাশীরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের শিক্ষক নিয়োগে দ্বৈতনীতি বা বৈষম্যমূলক নীতি চলমান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর গত ১৪ অক্টোবর ২০২১ তারিখের প্রজ্ঞাপনের আলোকে অধিদপ্তরাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর পদে দুই শতাধিক প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। ওই প্রার্থীদের আগাম কোনো পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়নি।

তাছাড়া, ৩৮তম বিসিএস নন-ক্যাডার থেকেও অনেক প্রার্থীকে নন-টেক ইন্সট্রাক্টর পদে চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। এ ছাড়া ক্রাফট ইন্সট্রাক্টরসহ বিভিন্ন পদে আগাম ভেরিফিকেশন ছাড়াও অনেক নিয়োগ সম্পন্ন করেছে দপ্তরটি।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ৩য় গণবিজ্ঞপ্তির এই ৩৮ হাজার শিক্ষকের আগাম পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ করেই চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। যা এসব নিয়োগ প্রত্যাশী শিক্ষকদের মাঝে যথেষ্ট ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

তাদের প্রশ্ন পুরোপুরি সরকারি নিয়োগে ভেরিফিকেশন ছাড়াই নিয়োগ হচ্ছে অথচ এসব শিক্ষকরা বেসরকারি এদেরকে ভেরিফিকেশন ছাড়া নিয়োগ দিচ্ছে না। একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুই রকম নীতি কীভাবে সম্ভব?

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মতো দ্রুত নিয়োগ চান নিয়োগ প্রত্যাশীরা। তারা দাবি তুলে বলছেন, ভেরিফিকেশন ও নিয়োগ দুটোই একসঙ্গে চলতে তো কোনো বাধা নেই। ৩৮ হাজার শিক্ষকের ভেরিফিকেশন দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। তাছাড়া ভেরিফিকেশনের বিষয়ে তাড়াহুড়াও সম্ভব না। তাই আগে চূড়ান্ত যোগদান দিয়ে পরবর্তীতে ধীরে ধীরে নিখুঁতভাবে ভেরিফিকেশন করা হোক।

গত ২৭ অক্টোবর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চলছে। ৫৪ হাজারের বৃহৎ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এর মধ্য থেকে ৩৮ হাজার যোগ্যপ্রার্থীকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। আমরা চাই যোগ্যতা ও নিখুঁত প্রক্রিয়ায় শিক্ষকরা এ পেশায় আসুক। তাই তাদের ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে।

ভেরিফিকেশনের বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু এটি অন্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি কাজ সেটা তাদের বিষয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষকদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুতই শেষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ভেরিফিকেশন কার্যক্রমের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এনটিআরসিএ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

এদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় লক্ষাধিক শূন্যপদ রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে গণিত, ইংরেজি, বাংলা, আইসিটি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক নেই। নিয়োগ প্রত্যাশী শিক্ষকদের পাঠদানে সহায়তা করার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু, চূড়ান্ত সুপারিশ বা যোগদানপত্র না থাকায় হবু শিক্ষকরাও এ পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই করতে পারছেন না।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর শুরু হয় তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম। গত ৩০ মার্চ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবেদন নিয়ে ১৫ জুলাই প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। ৪ এপ্রিল থেকে ৫৪ হাজার ৩০৪টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন নেয়া হয়। ১ থেকে ১২তম নিবন্ধনের রিটকারীদের জন্য দুই হাজার ২০০টি পদ সংরক্ষণ করে ৫১ হাজার শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয় এনটিআরসিএ। তবে ৮ হাজার ৪৪৮টি পদে কোনো আবেদন না পাওয়ায় এবং ৬ হাজার ৭৭৭টি নারী কোটা পদে প্রার্থী না থাকায় মোট ১৫ হাজার ৩২৫টি পদে বাকি রেখে ৩৮ হাজার ২৮৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬ হাজার ৩ জন ‘ভি’ রোল ফরম পূরণ করে না পাঠানোয় ৩২ হাজার ২৮৩ জনের পুলিশ ভেরিফিকেশন চলমান।

About admin

Check Also

বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শ্রাবন্তী

প্রতিদিন সড়কে ঝরে যাচ্ছে একাধিক প্রাণ। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ হলেও সময় গড়াতেই এসব …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *