অসুস্থ দাদীর জন্য দেশে ফিরবেন তারেক কন্যা জাইমা?

জাই’মা রহমান। তারেক জিয়ার কন্যা কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। জাই’মা’র জন্মের জন্মের পর বেগম খালেদা জিয়া পাল্টে গিয়েছিলেন, এটা বলেন বিএনপির অনেক নেতাকর্মীরা, খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠরা। একটা সময় ছিলো যখন জাই’মা’র সঙ্গে সারাক্ষণ কা’টাতে পছন্দ করতেন বেগম খালেদা জিয়া।

২০০১ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া। এই সময়ে তাকে দেখা যায় প্রায়ই জাই’মাকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে। জাই’মা’ও তার দাদীর অ’ত্যন্ত প্রিয় ছিলো, দাদীকে ছাড়া তিনি কিছুই বুঝতেন না। জাই’মা যখন তার পিতা তারেক জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে যাচ্ছিলেন তখন তিনি দাদীর জন্যই অনেক কা’ন্নাকাটি করেছিলেন।

প্রথম দিকে জাই’মা তার মা-বাবার সঙ্গে থাকতে চাইতেন না, দেশে ফিরে আসতে চাইতেন, দাদীর জন্য অনেক কা’ন্নাকাটি করতেন। বেগম খালেদা জিয়া যে কয়বার লন্ডনে গিয়েছিলেন, প্রত্যেকবারই জাই’মা’র অনুরোধ রক্ষার্থে গিয়েছিলেন বলে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। জাই’মা গত ১৩ বছরে বড় হয়েছেন, তার শিক্ষাজীবনও শেষ হয়েছে।

তিনি ব্যরিষ্টার ডিগ্রি নিয়েছেন, এখন যু’ক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন। বেগম খালেদা জিয়া যখন গ্রে’প্তার হন তখন দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন, দাদীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে তার চাচি শর্মিলা সিঁথির সঙ্গে তার দেশে আসার কথা ছিলো। কিন্তু সেই সময় তারেক তাকে বাধা দিয়েছিলেন, তাকে কোনো অবস্থাতেই ঢাকায় আসতে দেননি।

এবার যখন বেগম খালেদা জিয়া অ’সুস্থ হলেন এবং হাসপাতা’লে ভর্তি হলেন, যখন তার খবর পাওয়া গেল যে বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন তখন জাই’মা রহমান আবার দেশে আসতে চেয়েছিলেন। এই নিয়ে পিতার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। কিন্তু তারেক জিয়া তার অবস্থানে অনড়। তিনি কিছুতেই জাই’মাকে দেশে আসতে দিবেন না। জাই’মা রহমানের বি’রুদ্ধে কোনো দু’র্নীতির মা’মলা নেই, অন্য কোনো মা’মলা নেই।

তিনি চাইলেই বাংলাদেশে আসতে পারেন। তাছাড়া বাংলা ইনসাইডারের কাছে নিশ্চিত তথ্য আছে, জাই’মা রহমান ব্রিটিশ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন এবং তিনি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ নাগরিক। কাজেই একজন ব্রিটিশ নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তাকে কোন হয়’রানি করারও শ’ঙ্কা নেই।

এরকম পরিস্থিতিতে জাই’মা রহমানকে কেন তারেক জিয়া দেশে আসতে দিলেন দিলেন না বিশেষ করে তারা দাদীকে দেখার যে আগ্রহ এবং উৎসাহ তার ছিলো, সেই আগ্রহ ও উৎসাহকে কেন বাধাগ্রস্ত করলেন তারেক জিয়া, এটি নিয়ে বিএনপিতে তোলপাড় চলছে।

বারবার বিএনপির নেতারা বলছেন যে তারেক জিয়া যদি নাও আসতে পারে তাহলে ডা. জোবায়দাকে অন্তত পাঠানো উচিত ছিলো তারেক জিয়ার। ডা. জোবায়দা এবং জাই’মা যদি বাংলাদেশে আসতেন তাহলেও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি এক ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু তাদের কাউকেই ঢাকায় না পাঠানোটা তারেক জিয়ার অমানবিকতার এক চরম নিদর্শন বলে বিএনপি`র অনেকেই মনে করছেন।

বিএনপি নেতারা মনে করেন যে, তারেক জিয়া আসলে রাজনৈতিক কূটচালে এত বেশি ব্যস্ত যে তার মধ্যে মানবিক বিষয় গুলো ক্রমশ লোপ পেয়েছে যার যার একটি বড় প্রমাণ হলো জাই’মাকে দেশে আসতে না দেওয়া। কারণ শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার যদি কোন খা’রাপ পরিণতি হয় তাহলে তার কোনো নিকটাত্মীয়ই পাশে থাকবেন না। যাদের জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, যাদের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার আজকের এই অবস্থা।

বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু একটি কথা বলা হচ্ছে না যে, বেগম খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয়রা কেন লন্ডনে বসে আছেন? অ’সুস্থ এক বৃদ্ধার পাশে কেন তার নাতি আসছে না? কেন তারেক জিয়া আসছে না? কেন আসছে না ডা. জোবায়দা? তবে সবকিছুর উত্তর বিএনপি নেতাদের কাছে পাওয়া যায়। তারা বলছেন যে, জাই’মা রহমান বা জোবায়দাকে তারেকই আসতে দিচ্ছেন না। এর পেছনে অন্য কি মতলব আছে সেটি অবশ্য এখনও জানা যায়নি।

About admin

Check Also

শুধু কলেমা পড়ছিলাম। মনে হচ্ছিল, বাচ্চাদের মুখ বুঝি আর দেখা হলো না…

কা-রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি বাসে ডাকাতদের কবলে পড়েন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *